দুগ্ধবতী গাভী একটি যন্ত্রের মতো যা কাঁচামাল (খাদ্য এবং পানি) কে দুধে রূপান্তর করে। কাঁচামাল হল উদ্ভিদজাত উপকরণ যা সাধারনত। মানুষের ভোজ্য নয়, তবে গাভী এগুলিকে উন্নতমানের মানব খাবারে রূপান্তর করতে সক্ষম। গাভীকে খাওয়ানোর লক্ষ্য হল দুধের উৎপাদন সর্বাধিক করা (গরুর প্রয়োজনীয় খাদ্য তা পূরণ করে) এবং গরুর সুস্বাস্থ্য বজায় রাখা। গবাদিপশুর খাদ্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, কারণ এটি দুধ উৎপাদনের মোট ব্যয়ের প্রায় ৭০%। দুগ্ধবতী গাভীর জন্য বিভিন্ন ধরণের খাদ্যের উপাদানগুলির মধ্যে রয়েছে শস্য ও শস্য উপজাত দানাদার খাদ্য, সবুজ ঘাস, খড় এবং স্টোভারের মতো ফসলের অবশিষ্টাংশ। নিচে দুগ্ধবতী গাভীর বিভিন্ন ধরনের খাদ্যদানের পদ্ধতি আলোচনা করা হলো-
আঁশজাতীয় খাদ্য (Roughage)-
প্রতি ১০০ কেজি দৈহিক ওজনের জন্য গাভীকে দৈনিক ২ কেজি খড় বা হে অথবা ৬ কেজি সবুজ কাচা ঘাস সরবরাহ করতে হবে। কিন্তু খড় ও সবুজ ঘাস উভয়ই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত থাকলে তখন প্রতি ১০০ কেজি দৈহিক ওজনের জন্য ১ কেজি খড় ও ৩-৪ কেজি ঘাস সরবরাহ করতে হবে। সবুজ ঘাস প্রতিদিন ৩ বার সরবরাহ করতে হবে। গাভীকে মোট সবুজ ঘাসের তিন ভাগের এক ভাগ খড় সরবরাহ করা যেতে পারে।
দানাদার খাদ্য (Concentrate)-
দেশি গাভীকে প্রত্যহ ১.৫-২.০ কেজি দানাদার খাদ্য প্রদান করতে হবে। সংকর জাতের উন্নত গাভীকে প্রত্যহ ৩.-৪.০ কেজি খাদ্য প্রদান করতে হবে। এক্ষেত্রে নিয়ম হলো প্রথম ৩ লিটার দুধের জন্য ৩ কেজি এবং পরবর্তী ২.৫ লিটারের জন্য ১-১.৫ কেজি করে দানাদার খাদ্য সরবরাহ করতে হবে। দানাদার খাদ্য প্রতিদিন ২ বার সরবরাহ করতে হবে। সকালে দুধ দোহনের আগে এবং বিকালে দুধ দোহনের আগে। দানাদার খাদ্যের মিশ্রণ শুকনো বা হালকা ভিজিয়ে সরবরাহ করা যেতে পারে। তবে শুকনো সরবরাহ করলে সাথে সাথে পানি খাওয়াতে হবে।
খনিজ পদার্থ (Minerals)-
মোট দানাদার খাদ্যের ১% সিদ্ধ হাঁড়ের গুড়া এবং মোট দানাদার খাদ্যের ১০% লবণ সরবরাহ করতে হবে।
পানি (Water)-
পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি গাভীকে সরবরাহ করতে হবে। একটি দুধাল গাভীকে দৈনিক ৩৫-৪০ লিটার পানি সরবরাহ করতে হবে। গাভীকে তার শরীরের ওজনের ১০-১৫% পানি পান করাতে হবে।