চোখ মানুষের সৌন্দর্যের অন্যতম প্রধান অংশ। কিন্তু চোখের নিচে কালো দাগ থাকলে মুখে ক্লান্ত, বয়স্ক ও অসুস্থ ভাব ফুটে ওঠে। বর্তমান ব্যস্ত জীবন, অনিয়মিত ঘুম ও অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারের কারণে চোখের নিচের কালো দাগ এখন খুবই সাধারণ সমস্যা। তবে সঠিক যত্ন ও কিছু অভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমে এই সমস্যা অনেকটাই কমানো সম্ভব।
চোখে নিচে কালো দাগ হওয়ার কারণ-
চোখের নিচে কালো দাগ হঠাৎ করে তৈরি হয় না। এর পেছনে বেশ কিছু কারণ কাজ করে—
1. ঘুমের অভাব-
পর্যাপ্ত ঘুম না হলে চোখের নিচে রক্তনালীগুলো বেশি দৃশ্যমান হয়ে যায়, ফলে কালচে ভাব দেখা দেয়।
2. অতিরিক্ত মোবাইল ও কম্পিউটার ব্যবহার-
দীর্ঘ সময় স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকলে চোখ ক্লান্ত হয় এবং চোখের নিচে দাগ পড়ে।
3. পানিশূন্যতা (ডিহাইড্রেশন)-
শরীরে পানির অভাব হলে ত্বক শুষ্ক ও নিস্তেজ হয়ে পড়ে, যা চোখের নিচে কালো দাগ বাড়ায়।
4. বংশগত কারণ-
অনেক সময় পারিবারিকভাবে এই সমস্যা থাকতে পারে।
5. অপুষ্টি ও আয়রনের ঘাটতি-
শরীরে প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও আয়রনের অভাব চোখের নিচে দাগ তৈরি করতে পারে।
6. অতিরিক্ত মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তা-
দীর্ঘদিনের স্ট্রেস শরীর ও ত্বকের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
চোখের নিচের কালো দাগ বা ডার্ক সার্কেল আমাদের চেহারার সতেজতা কেড়ে নেয় এবং অনেক সময় ক্লান্ত ও বয়স্ক দেখায়। অনিয়মিত জীবনযাপন, পুষ্টির অভাব বা বংশগত কারণে এটি হতে পারে। তবে সঠিক যত্ন ও জীবনযাত্রায় সামান্য পরিবর্তন আনলে ঘরোয়া উপায়েই এই দাগ দূর করা সম্ভব।
চোখের নিচের কালো দাগ দূর করার কার্যকরী উপায়-
চোখের চারপাশের চামড়া খুব পাতলা ও সংবেদনশীল হয়, তাই এখানে সাধারণ ক্রিম বা সাবান ব্যবহার না করে প্রাকৃতিক উপাদানের ওপর ভরসা করা বুদ্ধিমানের কাজ।
১. প্রাকৃতিক উপাদানের ব্যবহার-
শসা ও আলুর রস:
শসা এবং আলু প্রাকৃতিক ব্লিচিং এজেন্ট হিসেবে কাজ করে। সমপরিমাণ আলুর রস ও শসার রস মিশিয়ে তুলায় করে চোখের ওপর ২০ মিনিট দিয়ে রাখুন। এটি নিয়মিত করলে চোখের ফোলাভাব ও কালো দাগ দুটোই কমে।
ঠান্ডা টি-ব্যাগ:
ব্যবহৃত গ্রিন টি বা ব্ল্যাক টি-ব্যাগ ফ্রিজে রেখে ঠান্ডা করে চোখের ওপর ১০-১৫ মিনিট রাখুন। চায়ের মধ্যে থাকা ক্যাফেইন ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে কালো দাগ দূর করতে সাহায্য করে।
ঠান্ডা দুধ:
কাঁচা দুধে তুলা ভিজিয়ে চোখের নিচে লাগিয়ে রাখুন। দুধের ল্যাকটিক অ্যাসিড ত্বকের উজ্জ্বলতা ফেরাতে দারুণ কাজ করে।
২. ম্যাসাজ ও ময়েশ্চারাইজিং
অ্যালমন্ড অয়েল (কাঠবাদাম তেল)-
রাতে ঘুমানোর আগে সামান্য আমন্ড অয়েল চোখের নিচে আলতো করে ম্যাসাজ করুন। এতে থাকা ভিটামিন-E চামড়াকে কোমল করে এবং কালো ভাব কমায়।
অ্যালোভেরা জেল-
ফ্রেশ অ্যালোভেরা জেল চোখের নিচে লাগিয়ে কিছুক্ষণ ম্যাসাজ করুন। এটি ত্বককে হাইড্রেটেড রাখে।
৩. জীবনযাত্রায় পরিবর্তন
দাগ দূর করতে কেবল রূপচর্চাই যথেষ্ট নয়, ভেতর থেকে পরিবর্তন প্রয়োজন-
পর্যাপ্ত ঘুম-
প্রতিদিন অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা গভীর ঘুম নিশ্চিত করুন। ঘুমের অভাবই ডার্ক সার্কেলের প্রধান কারণ।
প্রচুর পানি পান-
শরীর ডিহাইড্রেটেড থাকলে চোখের নিচের চামড়া ফ্যাকাসে হয়ে যায়, ফলে কালো দাগ বেশি স্পষ্ট হয়। দিনে অন্তত ৮-১০ গ্লাস পানি পান করুন।
লবণ কম খাওয়া-
অতিরিক্ত লবণ শরীরে পানি জমিয়ে রাখে, যার ফলে চোখের নিচে ফোলাভাব দেখা দেয়।
৪. সূর্যরশ্মি থেকে সুরক্ষা
সূর্যের ক্ষতিকর আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মি ডার্ক সার্কেল বাড়িয়ে দেয়। বাইরে বের হওয়ার সময় অবশ্যই সানগ্লাস ব্যবহার করুন এবং চোখের চারপাশে সানস্ক্রিন লাগাতে ভুলবেন না।
সতর্কতা কি-
যদি হঠাৎ করে চোখের নিচে অনেক বেশি কালো দাগ পড়ে এবং সাথে ওজন হ্রাস বা ক্লান্তি থাকে, তবে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ এটি রক্তশূন্যতা বা থাইরয়েডের সমস্যার লক্ষণও হতে পারে।