থানকুনি পাতা (যার বৈজ্ঞানিক নাম- Centella Asiatica) আমাদের দেশে অত্যন্ত পরিচিত একটি ভেষজ উদ্ভিদ হিসেবে খ্যাতি। প্রাচীন আয়ুর্বেদ শাস্ত্র থেকে শুরু করে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানেও এর গুণের কথা স্বীকার করা হয়েছে। রাস্তার ধারে বা স্যাঁতসেঁতে জায়গায় অযত্নে বেড়ে ওঠা এই পাতাটি আসলে একটি প্রাকৃতিক ওষুধি ভাণ্ডার।
থানকুনি পাতার জাদুকরী উপকারিতা-
- থানকুনি পাতায় রয়েছে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি এবং ভিটামিন-বি কমপ্লেক্স যা শরীরের বিভিন্ন জটিল রোগ সারাতে কাজ করে।
পেটের সমস্যায় অব্যর্থ ওষুধের কাজ করে-
আমাশয়, কোষ্ঠকাঠিন্য বা বদহজমের সমস্যায় থানকুনি পাতা মহৌষধ। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে থানকুনি পাতার রস খেলে পেটের আলসার এবং হজমের সমস্যা দূর হয়।
স্মৃতিশক্তি ও মস্তিস্কের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করে-
মস্তিস্কের কোষকে পুনরুজ্জীবিত করতে এই পাতা সাহায্য করে। এটি মনোযোগ বৃদ্ধি করে এবং বয়স্কদের অ্যালঝাইমার্স বা স্মৃতিভ্রম রোগ প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে।
ত্বকের উজ্জ্বলতা ও ক্ষত নিরাময় করতে-
থানকুনি পাতায় থাকা 'স্যপোনিন' নামক উপাদান ক্ষত দ্রুত শুকাতে সাহায্য করে। এটি শরীরে কোলাজেন উৎপাদন বাড়িয়ে ত্বকের বলিরেখা দূর করে এবং ত্বককে টানটান রাখে।
মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তা কমায়-
যারা অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা বা অনিদ্রায় ভোগেন, তারা থানকুনি পাতার রস খেতে পারেন। এটি কর্টিসল হরমোনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রেখে মানসিক প্রশান্তি দেয়।
রক্ত সঞ্চালন উন্নত করা-
শিরা-উপশিরার কার্যক্ষমতা বাড়িয়ে সারা শরীরে রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখতে এটি বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
থানকুনির সতর্কতা ও অপকারিতা
যেকোনো ভেষজ উপাদানের যেমন উপকারিতা আছে, অতিরিক্ত বা ভুল ব্যবহারে এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও হতে পারে।
অত্যধিক সেবনের কারণে-
অতিরিক্ত পরিমাণে থানকুনি পাতার রস খেলে মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব বা প্রচণ্ড মাথা ব্যথা হতে পারে।
অ্যালার্জি দেখা দেওয়া-
অনেকের এই পাতায় অ্যালার্জি থাকতে পারে। এটি ব্যবহারের পর যদি শরীরে চুলকানি বা লাল র্যাশ দেখা দেয়, তবে অবিলম্বে ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।
লিভারের সমস্যা হতে পারে-
দীর্ঘ মেয়াদে বা খুব বেশি পরিমাণে এই পাতা সেবন করলে লিভারের ওপর চাপ সৃষ্টি হতে পারে। যারা আগে থেকেই লিভারের জটিলতায় ভুগছেন, তাদের সাবধান থাকা উচিত।
অপারেশনের পরে-
কোনো সার্জারি বা অপারেশনের অন্তত দুই সপ্তাহ আগে থেকে থানকুনি পাতা খাওয়া বন্ধ রাখা উচিত, কারণ এটি রক্তক্ষরণ বা এনেস্থেশিয়ার সাথে প্রতিক্রিয়া করতে পারে।
কাদের জন্য এই পাতা খাওয়া অনেকটাই নিষেধ? (সতর্কবার্তা)
বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে থানকুনি পাতা এড়িয়ে চলাই শ্রেয়।।
গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারী মা এর জন্য -
গর্ভাবস্থায় বা শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ান এমন মায়েদের চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এটি খাওয়া উচিত নয়।
শিশুদের ক্ষেত্রে-
কম বয়সী শিশুদের এটি দেওয়ার আগে অবশ্যই একজন পুষ্টিবিদ বা ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
যাদের ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরল-
যারা ডায়াবেটিস বা উচ্চ কোলেস্টেরলের ওষুধ খাচ্ছেন, তারা থানকুনি পাতা খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যেতে পারে। তাই নিয়মিত চেকআপ প্রয়োজন।
কিভাবে খেলে বেশি উপকার পাবো?
থানকুনি পাতা খাওয়ার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো— ভালো করে ধুয়ে পরিষ্কার করে কাঁচা চিবিয়ে খাওয়া অথবা এর রস করে মধু মিশিয়ে খাওয়া।এছাড়াও এটি দিয়ে ভর্তা বা হালকা ঝোল রান্না করেও খাওয়া যায়। তবে মনে রাখবেন, অতিরিক্ত তাপে এর ওষুধি গুণ নষ্ট হয়ে যেতে পারে, তাই হালকা আঁচে রান্না করাই বুদ্ধিমানের কাজ।