নিমের অম্ল-মধুর গুণের কথা আমাদের দাদী-নানীদের মুখে আমরা সবাই শুনেছি।আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে নিমকে বলা হয়ে থাকে সর্ব রোগ নিবারণী বা সব রোগের মুক্তিদাতা। কিন্তু আধুনিক বিজ্ঞানের যুগে নিমের ব্যবহার যেমন বেড়েছে, তেমনই এর ভুল ব্যবহারে রয়েছে কিছু ঝুঁকি রয়েছে।
নিম পাতার অনন্য উপকারিতা-
নিমের পাতায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল, অ্যান্টি-ফাঙ্গাল এবং অ্যান্টি-ভাইরাল উপাদান, যা শরীরকে ভেতর ও বাহির থেকে সুরক্ষিত রাখে।
ত্বকের সমস্যায় জাদুকরী সমাধানে-
ব্রণের সমস্যা, একজিমা বা ত্বকের যেকোনো চুলকানি দূর করতে নিম পাতা বাটা বা এর রস দারুণ কাজ করে। এটি ত্বকের অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রণ করে এবং প্রাকৃতিকভাবে উজ্জ্বলতা বাড়ায়।
রক্ত পরিষ্কারক হিসেবে-
নিমের রস রক্ত থেকে টক্সিন বা বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেয়। রক্ত পরিষ্কার থাকলে শরীর সতেজ থাকে এবং ত্বকের র্যাশ কমে যায়।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখে-
নিম পাতা রক্তে শর্করার (Sugar) মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। প্রতিদিন সকালে ২-৩টি কচি নিম পাতা চিবিয়ে খেলে ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়ে।
দাঁত ও মাড়ির সুরক্ষা দেয়-
প্রাচীনকাল থেকে নিমের ডাল মেসওয়াক হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এটি মুখের দুর্গন্ধ দূর করে এবং দাঁতের প্লাক বা ক্যাভিটি তৈরি হতে বাধা দেয়।
খুশকি ও চুল পড়া রোধ করতে-
নিম পাতা সেদ্ধ পানি দিয়ে চুল ধুলে খুশকি দূর হয় এবং মাথার ত্বকের ফাঙ্গাল ইনফেকশন সেরে যায়।
সাবধানতা ও অপকারিতা কি?
উপকারী হলেও নিম পাতা সবার জন্য বা সব পরিস্থিতিতে নিরাপদ নয়। এর কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিচে দেওয়া হলো:
রক্তে শর্করার মাত্রা খুব বেশি কমে যাওয়া-
যারা ডায়াবেটিসের ওষুধ খাচ্ছেন, তারা অতিরিক্ত নিম পাতা খেলে হাইপোগ্লাইসেমিয়া (রক্তে সুগার কমে যাওয়া) হতে পারে।
প্রজনন ক্ষমতার ওপর প্রভাব ফেলে-
দীর্ঘমেয়াদে অতিরিক্ত নিম পাতা সেবন পুরুষ ও নারী উভয়ের প্রজনন ক্ষমতা বা উর্বরতা সাময়িকভাবে কমিয়ে দিতে পারে বলে কিছু গবেষণায় দেখা গেছে।
কিডনি ও লিভারের ঝুঁকি-
অতিরিক্ত নিমের রস লিভার বা কিডনির ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত সংবেদনশীল।
পেটের অস্বস্তি সৃষ্টি করতে পারে-
খালি পেটে খুব বেশি নিমের রস খেলে অনেকের বমি বমি ভাব বা পেটে জ্বালাপোড়া হতে পারে।
কাদের জন্য নিম পাতা নিষেধ করা?
- গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী মা- গর্ভবতী মহিলাদের জন্য নিম পাতা অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে, কারণ এটি গর্ভপাতের ঝুঁকি বাড়ায়।
- শিশুদের জন্য- ছোট শিশুদের নিম পাতার রস বা তেল খাওয়ানো থেকে বিরত থাকুন।
- অপারেশনের রোগী- আপনার যদি কোনো অস্ত্রোপচার বা সার্জারি হওয়ার কথা থাকে, তবে অন্তত ২ সপ্তাহ আগে নিম খাওয়া বন্ধ করুন। এটি রক্ত জমাট বাঁধার প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে।
ব্যবহারের সঠিক নিয়ম জানুন-
- কাঁচা পাতা: প্রতিদিন সকালে ২-৩টির বেশি কচি পাতা খাওয়া উচিত নয়।
- টনিক হিসেবে: ১৫ দিন টানা খেলে পরবর্তী ১৫ দিন বিরতি দেওয়া ভালো। কোনো কিছুই একটানা মাসের পর মাস খাওয়া শরীরের জন্য ঠিক নয়।
- বাহ্যিক ব্যবহার: নিম পাতা বাটা মুখে বা চুলে লাগালে ২০-৩০ মিনিটের বেশি রাখা ঠিক নয়, এতে ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে যেতে পারে।
মনে রাখবেন- নিম পাতা কোনো জাদুকরী ওষুধ নয় যে একদিনেই সব সেরে যাবে।পরিমিত ও সঠিকভাবে ব্যবহারই আপনাকে সুস্থ রাখবে।